জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামের উপজাত বা ওয়েস্ট থেকে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে আর সেটি সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও কমে আসবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
রাশিয়ার ‘ফাস্ট নিউট্রন’ প্রযুক্তির উদাহরণ দিয়ে রূপপুরের ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্যকেও পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানান পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রীতম কুমার দাস।
তিনি বলেন, ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামের উপজাত বা ওয়েস্ট থেকে ভবিষ্যতে আবারও জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো সফলভাবে পরীক্ষা করছে। সেটি সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও কমে আসবে।
এরআগে মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে পদ্মার তীর ঘেঁষা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এর মাধ্যমে পারমানবিক শক্তি ব্যবহারকারীর আন্তর্জাতিক দেশের তালিকায় ৩৩তম দেশ হলো বাংলাদেশ।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন মাইলফলক, পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে এই প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।
তবে টেকসই উন্নয়নের প্রতীক এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কতদিন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। এই সময়ে এখান থেকে পাওয়া যাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। তবে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত কেন্দ্রটির আয়ু বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটিতে একবার জ্বালানি লোড করার পর তা দিয়ে চলবে টানা দেড় বছর। ফলে অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো তেল, গ্যাস কিংবা কয়লা কেনার ঝক্কি-ঝামেলা নেই। দেড় বছর পর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে।
রূপপুরের দুটি ইউনিট মিলে কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং আজ হয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণকালীন প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ কাজ করছে প্রকল্প এলাকায়।
আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের মে মাসে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছে পুরোদমে।
Posted ১১:৪৩ এএম | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।